বিদেশ থেকে মোবাইল আনার নিয়ম ২০২২

 বিদেশ থেকে মোবাইল আনার নিয়ম ২০২২ -  বিদেশ থেকে আপনি যদি কোন মোবাইল ফোন কিনে আনতে চান অথবা উপহার হিসেবে আনতে চান তাহলে অবশ্যই আজকের এই পোস্ট টি একটু ভালভাবে পড়ে নেবেন ।

বর্তমান সারাবিশ্বে সহ আমাদের বাংলাদেশও মোবাইল ফোনের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে আমরা একের পর এক মোবাইল এখন প্রয়োজন মাফিক কি নিয়ে যাচ্ছি । 

এই মোবাইল ফোনের বৈধতা রয়েছে কিনা সে ব্যাপারটি আগে হয়তো সরকার এত কঠোরভাবে দেখেনি । কিন্তু বর্তমানে সরকারিভাবেই আপনাকে মোবাইল ফোন অফিশিয়ালি ভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে । 

আর সেটি যদি আপনি না করেন তাহলে অচিরেই আপনার সেই মোবাইল ফোনে কোন ধরনের কোন সিম সচল থাকবে না অর্থাৎ কোনো কানেকশনই আপনার ওই হ্যান্ডসেটে থাকবে না । তার জন্য অবশ্যই এখন থেকে আপনাকে অফিশিয়ালি ভাবে আপনার মোবাইল রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে । 

 

এখন কথা হল বিদেশ থেকে আনলে সেই প্রিয় কি রেজিস্ট্রেশন করা লাগবে উত্তর একেবারেই সহজ হ্যাঁ আপনি দেশের ভিতরে কিনল আপনার ফোন রেজিস্ট্রেশন করা লাগবে আর আপনি যদি বিদেশ থেকে অনেক সেক্ষেত্রে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য বেশকিছু প্রক্রিয়ায় রয়েছে যা কিনা আমি এই পোস্টের ভিতরে নিচে তুলে ধরছি আপনারা মনোযোগ সহকারে পোস্টটি পড়বেন ।

বিদেশ থেকে মোবাইল আনার নিয়ম ২০২১


বিদেশ থেকে মোবাইল আনার নিয়ম ২০২২

মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাই এর জন্য বাংলাদেশ সরকার ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার ব্যবস্থা চালু করেছে । এই কার্যক্রমকে প্রথমত তিন মাসের মত পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে তো তিন মাস হয়ে গেলে এরপর থেকে কিভাবে আপনি বিদেশ থেকে আসলে মোবাইল আনবেন । 


বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এই ব্যবস্থা চালু করার পর কিভাবে মোবাইল বিদেশ থেকে আনবেন অথবা দেশ থেকে কিনবেন সেটির  বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর তারা তাদের ফেসবুক পেজে দিয়েছেন সেগুলো আমি তুলে ধরছি।

কারো মোবাইল ফোন চুরি হয়ে গেলে সেটি সঠিক ডকুমেন্টে ওই মোবাইল ফোনটি নিষ্ক্রিয় করা যাবে কিনা?

উত্তরঃ এই তিনমাস পরীক্ষামূলকভাবে যে সার্ভিসটি তারা চালু করেছে এটি সময় শেষ হবার পর থেকে এই সেবাটি চালু হবে যে আপনি চাইলেই আপনার ফোনটি যদি চুরি হয়ে যায় আপনার সঠিক ডকুমেন্ট সাবমিট করে ওই ফোনটি নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারবেন ।


অফিশিয়াল মোবাইল ফোনটির আই এম ই আই (IMEI)  বিটিআরসির ডাটাবেজে যুক্ত হতে সর্বোচ্চ কতদিন সময় লাগবে?

উত্তর:বিটিআরসির পূর্ব অনুমোদন নিয়েই বাংলাদেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোন অথবা বিদেশ থেকে আনা ফোন বিটিআরসির ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা থাকবে ।


এক ব্যক্তির নামে সর্বোচ্চ কয়টি মোবাইল ফোন নিবন্ধন করা যাবে?

উত্তর: এখনো পর্যন্ত কোন সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি যে কয়টি ফোন আপনি নিবন্ধন করতে পারবেন তবে বিদেশ থেকে ফোন আনার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি বিনা শুল্কে অর্থাৎ ওড়না দিয়ে সর্বোচ্চ দুটি ফোন আনতে পারবে । আর শুল্ক দিয়ে 6 টি ফোন সর্বোচ্চ আনতে পারবে ।

এনইআইআরে বিদেশ থেকে আনা মোবাইল ফোন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কি টাকা লাগবে?

উত্তর: না


বিদেশ থেকে আনা অতিরিক্ত ফোন নিবন্ধনের জন্য কি কি ডকুমেন্ট দরকার হবে?

উত্তর: বিদেশ থেকে আনা সর্বোচ্চ দুটি মোবাইল ফোন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট এর নম্বর ও পাসপোর্টে ইমিগ্রেশনের দেওয়া আগমনের সিলসংবলিত পাতার স্ক্যান 
অথবা ছবি লাগবে। 

বিদেশ থেকে শুল্ক পরিশোধ সাপেক্ষে আনা সর্বোচ্চ ছয়টি মোবাইল ফোন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট নম্বর, পাসপোর্টে ইমিগ্রেশনের দেওয়া সিলসংবলিত পাতার স্ক্যান অথবা ছবি ও কাস্টমস শুল্ক পরিশোধসংক্রান্ত প্রমাণপত্রের স্ক্যান অথবা ছবি লাগবে। 


 আপনি যদি বিদেশ থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে  ফোন  আনতে চান সেটির নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কমার্শিয়াল ইনভয়েসের স্ক্যান/ছবি, প্রাপকের জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান/ছবি এবং কাস্টমস শুল্ক পরিশোধসংক্রান্ত প্রমাণপত্রের স্ক্যান/ছবি জমা দিতে হবে।

নিজ থেকেই মোবাইল ফোনটি নিবন্ধন হয়েছে কিনা সেটি জানার কোন উপায় আছে?

উত্তর:স্বয়ংক্রিয়ভাবে যদি নিবন্ধন না হয়ে থাকে তাহলে আপনার মোবাইলে এসএমএস চলে যাবে ।কোন এসএমএস না গেলে আপনাকে বুঝতে হবে যে আপনার মোবাইল ফোনটি সংক্রিয়ভাবে registration হয়ে গিয়েছে । শুধুমাত্র বিদেশ থেকে কিনে আনা অথবা উপহার পাওয়া ফোনটি নিবন্ধনের জন্য সুযোগ থাকবে । দেশ থেকে কোন অবৈধ সেট কেনা হলে সেটি রেজিস্ট্রেশনের কোনো সুযোগ থাকবে না ।


MSISDN ও NID–এর মাধ্যমে মুঠোফোন নিবন্ধিত হচ্ছে, সেটার পরবর্তী সময়ে মালিকানা পরিবর্তনের সুযোগ আছে কি?

উত্তর: পরীক্ষামূলক এখন যে সময় যাচ্ছে এখন সেটের মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে । কিন্তু তিন মাস পরীক্ষামূলক অতিবাহিত হওয়ার পর কিভাবে আপনি মালিকানা হস্তান্তর করবেন সেটির বিষয় সরকার থেকে অবগত করা হবে ।

বিদেশ থেকে মোবাইল আনার নিয়ম ২০২২

আপনার ফোনটি যদি 30 জুলাইয়ের আগে বিদেশ থেকে এনে থাকে তাহলে সেটি আর নতুন করে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। এই ফোনটি অটোমেটিক্যালি আপনি যেই সিম ওই মোবাইলে প্রবেশ করেছেন ওই তথ্য অনুসারে রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে । 

 কিন্তু 30 জুলাইয়ের পর থেকে যদি আপনি বিদেশ থেকে কোন মোবাইল বাংলাদেশ আনেন সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরছি।


বিদেশ থেকে আনা মোবাইল ফোন রেজিস্টার করার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে বাংলাদেশ সরকারের ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার এর ওয়েবসাইট  http://www.neir.btrc.gov.bd/  এ যেতে হবে। 


এরপর আপনি যেই ওয়েব সাইটটিতে প্রবেশ করলেন সেখানে দেখতে পাবেন নিবন্ধন করুন এই অপশনটিতে আপনি ক্লিক করবেন। এরপর ওই ফর্মে যেসকল তথ্যগুলো চাইবে সেই তথ্যগুলো দিয়ে আপনি নিবন্ধন করুন এই ফ্রম এ ক্লিক করবেন। এখানে কোন ধরনের কোনো মিথ্যা তথ্য দিবেন না।  


সঠিক তথ্য জমা দিয়ে আপনি আপনার ফোনটিকে অফিশিয়ালি করে নিন তারপর নিশ্চিন্তে মোবাইল ফোন ব্যবহার করুন ।


আপনার ফোনটি কিভাবে আপনি অফিশিয়ালি ভাবে নিবন্ধন করবেন নিচের লিংকে ক্লিক করে পুরো বিষয়টি দেখে নিন। 





পরিশেষে বলব বিদেশ থেকে যারা মোবাইল ফোন আনতে চান তারা অবশ্যই সরকারের নির্দেশনা মেনে তারপর আপনার মোবাইল ফোনটি নিয়ে আসুন এবং সঠিকভাবে আপনার ফোনটি নিবন্ধন করে নিন যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কোনো সমস্যা না হয় ।

1 Comments

Previous Post Next Post

Ads

Ads

Contact Form